Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Sunday, 24 January 2016

"কবি ও ডোম"

"কবি ও ডোম"
-আল ইমরান

রাতের নগর বা নগরের রাত দেখিনা অনেকদিন,
রাস্তার মাঝে মাঝে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা
নিয়ন আলো ছড়ানো ল্যাম্পপোস্ট আর
একদল গৃহহীন মানুষের রাত্রিযাপন।

এইত সেদিন, 
রাতজাগা চাঁদ আর নিয়ন আলোর স্রোতে
আনমনে কিছুক্ষন ভেসে থাকার অভিলাসে
রাতের নগরে বেড়িয়েছিলাম,
একাকি নয়, প্রেয়সীর হাতে হাত রেখে নয়,
বন্ধুর কাধে কাধ মিলিয়ে।

বন্ধুটি লাশকাটা ঘরে,
এক আহত হৃদয় ব্যবচ্ছেদে ব্যাস্ত ছিল।
হৃদয় আহত হলেও
দেহটি ছিল নিহত, বেনামি লাশের।
নিয়ন আলোয় নগর ভ্রমনের প্রস্তাবে
এক কথায় রাজি হয়েছিল সে।
সেই লাশকাটা ঘরে
কত হৃদয়ই না ব্যবচ্ছেদ হয় প্রতিনিয়ত।
মরে গেছে বলে সেই হৃদয়ের রক্তক্ষরন
দেখা হয় প্রায়শই।
কিন্তু বেঁচে আছি বলেই হয়ত
এই হৃদয়ের রক্তক্ষরন দেখা হয়না সহসা।


রাত যখন গভীর হয়,
এই নগরে বাড়ে গণিকাদের আনাগোনা।
সেই মিছিলে,
পরিস্থিতির শিকার কিছু জীবন ভেসে যায়।
মানুষে মানু্ষে এই যে ভেদাভেদ,
ল্যাম্পপোস্ট আর এই নিয়ন আলো
আমার শেখায় সেরা বাস্তবতার পাঠ।

Sunday, 30 August 2015

রাতের কথকতা

একটি রাত, 
একটি বিনিদ্র রাত।
একটি গল্পময় রাত,
একটি কাব্যময় রাত।
কষ্ট বিনিময়ের রাত,
উষ্ণতা ভাগ করে নেয়া রাত।
আধো ঘুম আধো জাগরনে
স্বপ্ন অথবা দুঃস্বপ্ন দেখা রাত।
মনের গহীনে জমে থাকা,
চেপে রাখা, দুঃখ প্রকাশের রাত।
দ্বিধা ভুলে, ভুল গুলো মেনে নিয়ে,
নিঃসঙ্কোচে ক্ষমা চাওয়ার রাত।

মেঘে ঢাকা রাত,
বৃষ্টি ভেজা রাত।
তারা ভরা রাত,
ভুলে যাওয়া রাত।
স্মৃতি কাতর রাত,
ঘুমে কাতর রাত।
জোছনা বিহার রাত,
প্রেম নিমগ্ন রাত।
আরেকটি ভোরের স্বপ্নে বিভোর
আশায় বেঁচে থাকার একটি রাত।

Tuesday, 16 June 2015

সমাহিত কাব্যিকতা


কবিতার খাতা নিয়ে বসা হয় না আর,
শিল্পায়নের স্রোতে গা ভাসাতে গিয়ে
ইট, সিমেন্ট এর ভাঁজে ভাঁজে
সমাহিত করে ফেলেছি কাব্যিকতা।

এইত কিছুদিন আগেও
হঠাৎ করেই মনের ভেতর হানা দিত শব্দরা
বলত, আমাদের সাজাও, কবিতা লিখে নাও।
এখন আর আসেনা তারা,
মনের দরজায় আঘাতে আঘাতে
রক্তক্ষরণ ঘটলেও শব্দক্ষরণ হয় না।

ইচ্ছেঘুরি গুলোর সুতো কেটে গেছে
অব্যক্ত বোবা যন্ত্রনারাও নীরব।
আধুনিক কবিদের কবিতা পড়ি,
সেখানেও শুরু থেকে শেষে
প্রতিটি শব্দের উৎস থেকে প্রয়োগে
নারী দেহের গোপনাঙ্গ উন্মুক্ত করার
কি সুনিপুণ প্রয়াস।
সেটা নাকি আবার মুক্তমনা কাব্য!
সভ্যতার ভিড়ে দমবন্ধ হয়ে যেন,
উন্মুক্ত হয়ে নিঃশ্বাস নেয়ার অপচেষ্টা।

Sunday, 26 April 2015

ভুলে গেছি তোকে
















ভুলে গেছি তোকে,
সত্যিই ভুলে গেছি তোকে
মনে পড়েনা একটিবারের জন্যেও
মনে করে বা মনে রেখেই কি হবে,
তুই তো আমার না,
অবাক ব্যাপার কি জানিস,
তুই অন্য কারোও না।

অনেকটা ভেবে বুঝেছি,
তুই শুধু তোকে নিয়েই বাচিস।
কোন বৃষ্টিভেজা রাতে অথবা
মিষ্টি রোদেলা বিকেলে,
তুই কখনই ভাবিসনি আমায়।
সত্যিই কি তোর ভাবনাতে আমি নেই,
এখন অথবা তখন
নাকি এটা তোর ছলনা,
আমার সাথে, তোর নিজের সাথেও।

কেন ভাববো তোকে আমি,
কি এমন পড়েছে দায়,
তুই আমার কে বল,
শুরু হবার আগেই শেষ হওয়া গল্প
মনে রাখেই বা কজন।
ভালোই হোল বল,
দুজনার পথ তো দুটি দিকেই।
ভাবনাতে সাথে থেকে কি আর এমন হবে?

আমি অভিমানী,
না না সেকি,

আমি অভিমান করার কে?

মনের অজান্তে কেন জানি না
তোকেই ভালবেসে ফেলেছিলাম,
সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজি আজো
নিজেরই অজান্তে।

ভুলে যাব বলতে গিয়েও
কতটা ভাবতে হচ্ছে তোকে দ্যাখ।
আমার মন থেকে বেরিয়ে যা।
আসিস না আর কক্ষনো
তোকে হারিয়ে ছিলাম, সেই ছিল ভালো।
কেন পেলাম তোকে এতটা বছর পর
বোবা মনের অব্যাক্ত শব্দগুলোকে
কেন উস্কে দিলি,
কেন জানলাম আমি এতটা বছর পরেও
আজও তুই একা।

আবার হারাতে চাই তোকে।
মনে করতে চাই না তোর স্মৃতি।
তাই হলফ করে বলি,
ভুলে গেছি তোকে। 

Sunday, 26 October 2014

                                    প্রবাসী- তোর জন্মদিনে
                                       মঞ্জুশ্রী রায়চৌধুরী

বাবু,
তোর গন্ধ দুনিয়া জুড়ে
আমার চোখের তারায়-
নাড়ির গোড়ায়,
আকাশ পাতাল ও’ঘর...
আমার ব্যপ্ত দিন- অব্যবস্থ পিছুটানের
ঘেন্না ভালবাসায়
জাপ্টে আছে নির্ঘুম লেখাপত্রের
রাত্রিযাপনের পরতে।

এমনি করে মনে পরতেই হবে
এ’ দায় নিয়েছে পাড়া-
দায় নিয়েছে পাড়া-জোড়া ফোটা ফুলের দল
তাদের উপচানো সৌরভে মাতাল
আহ্লাদী শরত্ হাওয়া।

তুই ভুললে আমাকেও ভুলতে হয়
এটা বিধি বলে
তোর অংশ্যমান আমায় অন্যমনা করুক
এটা অভিমান বলে
লক্ষী-বোধন ক্ষণে
তাই ধনে যেতে চাই মন ভুলে
তবু তোর আসা
বাতাসে গন্ধ শরীরের।

দ্বন্দ্ব এলে আসুক-
ধন্ধের জন্য কোল পাতা আছে
পোড়াব সুধা জ্বেলে-
শুধু অপার গন্ধ যাক

কিন্তু ছাতিমফুল কি বোঝে অতশত?
কোথায় বিক্ষত আমি কোথায় স্নেহ-নত!
গবাক্ষ থেকে গগন অবধি উল্লাস তার,
সন্ধ্যা হতেই শুরু আলাপন
গন্ধ উড়িয়ে বাবুকে জড়িয়ে স্মরণ

এই বরণ থেকে
জানিনা কি চায় আকাশ
কি চায় সুরভি
এই স্নিগ্ধতা আমার আশ্রয় নাকি হরণ!
শুধু জানি
রাত্রির কাছে বাঁধা পড়ে গেছে
দিনের ধীর সরণ।
..........................

অংশ্যমান: যা বিভাজিত হচ্ছে





Tuesday, 26 November 2013

উৎসবমুখর নৈরাজ্য

আল ইমরান

একটা কবিতা লিখব বলে
কবিতার খাতা নিয়ে বসি,
মনের ভিতর উঁকি দিয়ে দেখি
ভেতরটা শুন্য, অন্ধকার আর নিরুত্তর,
ভেবে ভেবে ভাবনার ছেঁড়া সুতো নিয়ে
আরও বেশি ভাবনায় ডুবে যাওয়া
আস্তে আস্তে তন্য তন্য করে খুঁজে ফেরা
শব্দরা ডুবে আছে সেই নিস্তব্ধ অন্ধকারে।

তোমাকে ভাবার চেষ্টা করলাম বেশ করে
তোমার চোখ, তোমার ঠোঁট, তোমার নৈরাজ্য
যেন ভাবনাকে আরো বেশি ধোঁয়াটে করে।
তুমিও যেন আমার নিরবতা নিয়ে মেতে আছ
মেতে আছ উৎসবমুখর নৈরাজ্যে।

ভাবতে ভাবতেই দুচোখে ভর করে ঘুম,
যেন ঘুমাইনা কত সহস্র বছর ধরে।
আলতো করে বন্ধ দুচোখের ক্যানভাসে
জল রঙ্গে মনের তুলিতে আঁচড় কাঁটি,
শত চেস্টাতেও ফোটেনা কোন অবয়ব
ঘিরে ধরে ক্লান্তি, ধ্যানমগ্নতা থেকে গভীর ঘুমে
নিজেকে সঁপে দিয়ে হই নিথর, নির্বাক
শুন্য থাকে আমার শখের কবিতার খেরোখাতা।

Friday, 16 August 2013

অনিয়মিত শব্দক্ষরন

আল ইমরান

পরিনামে পরিনত শাশ্বত জীবন অবারিত
যবে পতিত পল্লব মণ্ডিত নিস্পলক আঁখি গহীনে,
যেন শত বর্ষের অদম্য পিপাসায় পিপাসার্ত
সলিলে সমাহিত করে অবধারিত নিয়তি,
যেন পূরণ করে আকূতি যত মানসপটে
সবিনয়ে নিবেদন আজ শুধু বিরানে বিলীন।
কন্টক দুর্ভেদ্য চিন্তামালার খোলা জানালা
কেবলই খুলে দেয়া দুর্গ্রহের ধোয়ার্ত চিমনি।
প্রতীয়মান আজ অপেক্ষার প্রহর গুলোর নিশ্চুপতা
কোন মোহে বিচ্যুত তায় কক্ষপথ হতে কক্ষমাত্রায়।
নির্লোভ কামুক চাহুনির তীব্র থেকে তীব্রতর জ্বালা
আজ কেবলই পর্যবাসিত শীৎকারের উল্লাসিতায়।

উদ্ভট উশৃঙ্খল কথামালা, অনিয়মিত শব্দক্ষরণ,
সাগর মন্থনে যেন সর্পরাজ বাসুকির দু'পাশে
দেব আর অসুরের পরিমিত সঞ্চালনের ছোঁয়া।
মন্থন রস যেথা এক একটি উপপাদ্যের প্রতিপাদন।
প্রতিপাদিত প্রতি উপপাদ্য অন্তঃস্থকরন সাপেক্ষে
নিঃসৃত যেন অমৃত, যেখানেও আছে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব।
দেব আর অসুর সম্মুখে আবার প্রতিস্থাপনে স্বীয় প্রতিপত্তি
অবশেষে এক উর্বশী কুমারী অবতারেই সম্পন্ন যজ্ঞ।

Wednesday, 6 March 2013

দূরত্ব প্রয়োজন..


এইতো আছি কত কাছে,
দেহের কাছে, হৃদয়ের কাছে, চিন্তার কাছে,
অনেক অনেক বেশি কাছে আছি বলে-
প্রয়োজনটা বেশ কমে যাচ্ছে দিনদিন,
তাই দূরত্ব বুঝি প্রয়োজন।

ঘুড়ি আর নাটাই যদি থাকে কাছাকাছি
তবে এর সার্থকতাই কি আছে?
মুক্ত আকাশে উড়বে ঘুড়ি, যুক্ত থেকে নাটাই সুতোয়,
তবেই না জমবে খেলা।
উড়ে উড়ে ঘুড়ি যাবে যতই দূরে, 
মন যেন ভরে উঠে উৎফুল্লতার সুরে।
আবার দিন শেষে শেষ হবে খেলা, ভাঙবে মেলা
দূর হবে নাটাই ঘুড়ির দূরত্ব; তবেই না সার্থকতা।

তেমনি করে ভালবাসা বুঝতে হলেও প্রয়োজন দূরত্ব
হৃদয়ের টান থাকবে অটুট কিন্তু সরে যেতে হবে দূরে,
সরে যেতে হবে চোখের কাছ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে।
চোখের এই আড়াল তখনই বাড়াবে টান, বাড়বে প্রেম।
প্রতি মুহূর্তে পুরনো স্মৃতির পাতা উল্টে সামনে খুলে যাবে,
কাছে থাকার, ভালোলাগার মুহূর্তগুলো ফিরে পেতে চাইবে মন।
আস্তে আস্তে নবায়ন হবে ভালবাসা, 
আরেকটাবার প্রেমে পড়ার ইচ্ছেরাও প্রবল থেকে প্রবলতর।
খুব বেশি সময়ের দূরত্ব-
ভালবাসার মেয়াদ শেষ করে দেবারও সম্ভাবনা রাখে;
ঠিক যেমনি সুতো কাটা ঘুড়ি উড়তে পারে না বেশিক্ষণ।

অনেক ভেবে আজ মনে হয়, হঠাৎ করে মাঝে মাঝে, 
জীবনের প্রয়োজন করতে অনুধাবন, 
কিছু সময়ের জন্য হলেও দূরত্ব বড় বেশি প্রয়োজন।

Friday, 15 February 2013

অবাক লাগতেই পারে…



খুব অবাক লাগে জানো, যখনই দেখি পাহাড়কে।
অবাক তখনও লাগে, যখন দেখি সাগর;
আকাশটা তো আরও বেশি ভাবায় আমায়
এই যে আকাশের বিশালতা আর অসীম-ব্যাপী ব্যাপকতা,
ছোট বড় কত কিছুই না বুকে ধরে রাখার সফলতা।
কত ছুটোছুটি আর হুটোপুটির মাঝেও আশ্চর্য নীরবতা।
আবার কখনো বা এই অখণ্ড বিস্তীর্ণতায় চোখে পড়ে গভীরতা।

মানুষগুলো দেখলে আরও অবাক লাগে জানো,
ছোট্ট হৃদয়টিতে ধরে রাখা কতইনা কথকতা।
কখনও পাহাড়সম এই বিশালতা, কখনও সাগর,
কখনও আকাশসম ব্যাকুলতা।
বিচ্ছিন্ন বা নিরবচ্ছিন্ন ভাবনার সুতো বুনে চলা অবিরাম,
যেন রুপকথার চাদের বুড়ির চরকা কাটার মত,
নেই কোন বিরাম-
কোটি কোটি নিউরন, নেফ্রন এবং সেলের অক্লান্ত কর্মযজ্ঞের।

রন্ধ্রে প্রবাহিত রক্তের মাঝের অগণিত রক্ত কণিকারা ব্যস্ত
একক থেকে একান্তরে, কোষ থেকে কোষান্তরে নিরন্তর আনাগোনায়।
কি দুরন্ত এই ছুটে চলার কর্মস্পৃহা, কত সরল, কঠিনে মিশ্রণে,
বিস্তীর্ণ, ব্যাপক তাদের কার্যক্রম-
যেন সৃষ্টির সেরা এই সৃষ্টিতে প্রতিনিয়ত এক মহাবিশ্বের অনাসৃষ্টি।

Wednesday, 29 August 2012

কবিতা আজ লিখবোই



আজ রাতে কবিতা লিখব
ঘুমুতে দেব না শব্দদের কে
নিঃশব্দ রাখব না আর আবেগ
কলমের আঘাতে
ক্ষত বিক্ষত হবে আজ কবিতার খাতা
কলমের রক্ত ঝরিয়ে হলেও লিখব কবিতা
লিখব কবিতা আজ রাতে।

নির্ঝরা স্বপ্নগুলোকে
আজ ঝরিয়েই ছাড়ব।
বুক আঁকড়ে পরে আছে অনেকদিন হয়,
কান্না হয়েও বেরিয়ে আসে না তারা
আজ কলমের ডগা দিয়ে
খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করে আনব
লিখব কবিতা আজ রাতে।

নালিশ জানালাম ভাবের দরজায়
জানালাম শব্দদের সেচ্ছাচারিতার কথা
বলেছিল অপেক্ষা করতে...
অপেক্ষায় থেকে থেকে অতিষ্ঠ, বিরক্ত আমি
আজ পিঠ থেকে গেছে দেয়ালে
তাইত বিধ্বংসী মনোভাবে
যুদ্ধংদেহী হয়ে বসেছি
লিখবোই কবিতা আজ রাতে।

লিখতে লিখতেই ভাবছি
আজ আর শুনব না কারো কথা
মানবো না নিয়ম, শাসন,
দেখবোনা ব্যকরন, সন্ধি কিংবা সমাস
কিংবা ণত্ব ষত্ব বিধান
ধার ধারব না আজ কোন কালের
ধার ধারব না ছন্দবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত বা অক্ষরবৃত্তের
যে করেই হোক আজ লিখবোই
লিখবোই কবিতা আজ রাতে।

Friday, 15 June 2012

আলোকবর্ষ



ঘুমের ভেতরে বা বাহিরে,
মনের ভিতরে যখনি উঁকি দেই
এক অসীম নিরবচ্ছিন্ন মহাশূন্য
ঝট করে উঠে আসে চোখের সামনে,
সেথায় খুঁজে ফিরি
শত শত আলোকবর্ষ ধরে
খুঁজি দৈব চয়নে
খুঁজি বিমূর্ত নয়নে
শুধু খুঁজে যাই বহু আকাঙ্ক্ষিত তোমায়

কত না সহজে বলে ফেলা
একটা শব্দ আলোকবর্ষ...
আলো নিজ গতিতে যদি চলে
নিরবচ্ছিন্ন ভাবে একটি বছর
এক বছরের ক্লান্তিহীন পরিভ্রমণ শেষে
অতিক্রান্ত হয় একটি আলোকবর্ষ 

এতোটা সময় আর এতোটা পথ
ঘুরে ঘুরে ক্লান্তি নেই মনের
শুধু খুঁজে যায় আকাঙ্ক্ষিত তোমায়,
প্রতিক্ষার প্রতিটি প্রহর কাটে 
বোবা যন্ত্রণার অব্যক্ত চিত্কারে

Thursday, 14 June 2012

গোধূলী

মঞ্জুশ্রী রায়চৌধুরী


অনেকটা আকাশ লুটিয়ে আঁচল
বনস্থলীর দিশামুগ্ধ লালিমাতে
ছিল বিছিয়ে-
দুজনে... দুসনে।

মেঘ কি করে যেন খবর পেল
সে আকাশে জলপরী সম্ভাবনারা
সবুজ আলোর স্নান সেরে
শিকারে গেছে।

শুনে মনোপুরে মন্থন মঞ্জুর-
স্মৃতিপুরে ভীতিময় উতরোল।
জয় এত সোজা নয় মেঘ। 


যাও মেঘ, দেখো,
আঁচলে গেঁথেছ যে সৌরভ,
উড়িয়েছ রামধনু রঙ 
ম্লান করে দিয়েছে তা
দিনান্তের শত্রুশিবির।

Saturday, 14 April 2012

মুক্তোকথা


মঞ্জুশ্রী রায়চৌধুরী

দিয়ে উপরতলে বরফগলা জল
আগুন হয়ে এলি পায়ের নীচে।
কেন্দ্রস্রোতে কাঁপন নিয়ে যুঝেও
পুডালি তুই বুকের দরজা ভিজে।

অবহেলা অকুন্ঠিত ছিল
ছিল দিনে অমানিশার আঁধার
নোনাজলে বসত দিলি বলেই
মুক্তো হলাম সমুদ্রগন্ধার

ডুবতে-ডুবতে পোড়ার জ্বালা জানি,
জানি থেকেও দূরে নিকট-ভাসা ভান
ঝিনুকবুকের উথাল-পাতাল কাছে, 
আছে এই কবিতার জন্মের আখ্যান

Tuesday, 14 February 2012

চাঁদের অন্তঃকথা (ই-বুক সৃজনে প্রকাশিত আমার লেখা)


ই-বুক সৃজন এর দ্বিতীয় সংখ্যায় আমার প্রকাশিত কবিতা...............
সৃজনের প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল অস্পষ্ট আবেগ কবিতাটি।

Monday, 9 January 2012

একলা রাজকুমারী


চাইনা রাজা 
চাইনা রানি
পারলে হতে
ভিখারিনী 
অনেক সুখে
থাকতে পেতাম
নিজের মত
স্বাধীন জীবন
তবুও আমি
রাজকুমারি
একলা পথে
হাঁটতে রাজি
চাইনা আমার
রাজকুমার
একলা আগুন
আর দুটো
হাত । ।

Sunday, 8 January 2012

সূর্য যখন উঠবে তবে

তৃষিতা বন্দ্যোপাধ্যায়


বৃষ্টি মাখি
সকাল বাড়ি
মেঘলা আকাশ
কাজল রকম
হঠাৎ কেমন
দেখে আমায়
অন্য চোখে
একটা প্রহর
নিজের মতন
আমার কথা
ফুরায় যেমন
অজান্তে যে
ঝূপূশ করে
বৃষ্টি ভাসি
হয় পৃথিবী
জলের মুঠো
পড়লে পড়ে
ঢেঊ ওঠাসব
শাড়ির সারি
হাত পা ছুড়ে
ডাকে আমায়
ঘরে ফেরার
বায়না জোড়ে
আমি শেষে
পালাই তবে??
মন মুক্তোর
গাঁথা মালা
ভীষণ জোরে
কপট রাগে
টেনে হিঁচড়ে
তারটি ছিঁড়ে 
মুক্তো গুলি
ছিটকে গিয়ে
গড়িয়ে পড়ে
এদিক ওদিক
ছুটতে থাকে
দোস্তি করে
তারপরেতে 
বৃষ্টি বাড়ি
একলা একা
 মন কাবাড়ি
ফোঁটা ফোঁটা
লুটোপুটি
ঝরতে চাওয়া
ঠুনকো সময় 
শূন্যতা আর
ঠিকানা বিহীন
বলতে চাওয়া
নীরবতারা
ঠোঁটা টা ছুঁয়ে
পালিয়ে বেড়ায়
আবার কখন
মন খেয়ালে
ভুরু কুঁচকে
প্রশ্ন তোলে
আমার দিকে
তাকাবি তবে??
হাওয়ারা বলে
স্নেহরা বলে
পাগল বলে
পাগলি বলে
সূর্য যখন
ঊঠবে তবে । ।



শুভার্থী


মঞ্জুশ্রী রায়চৌধুরী

হাওয়ায় ছড়াস চতুর আলাপন
শুভার্থী তুই আমার প্রণাম নে।
ক্ষয়ের-মধ্যে ক্ষতের চারা রোপন
শুভার্থী তুই কষ্ট আরো দে।

আমার কর্মে প্রশ্ন অগণন
শুভার্থী তোর কাজের দিন বাড়ুক।
আমার সুখে কষ্ট অনুক্ষণ
শুভার্থী তোর সুখপাখীটা উড়ুক।

হত আমার ইচ্ছে অবিরত
শুভার্থী তুই সেই নিহতয় বাঁচ।
আমার খুশী মুক্তোদানা যত
শুভার্থী তা হারিয়ে গেছে- নাচ।

ভাবিস খুলে ফেলবি নীল রাগ
শুভার্থী তুই তোর মতনই থাক।
ছড়াস কালো ঈর্ষা বিষ-ভাব
শুভার্থী তুই না থাকলে অভাব।

আছিস্ বলেই বেড়া ভাঙার জেদ
শুভার্থী তুই কুটিল আরো হ।
কাড়িস বলেই আলক্ষ্য অভেদ।
শুভার্থী তুই জীবন জুড়ে র।
***************************

Friday, 6 January 2012

এটা কিন্তু google search পারে না


রাতের গুঞ্জনে উঠে আসা জোনাকির পরকীয়া
ঝিলমিল করা অস্তিত্ব গুলি এঁকে বেঁকে নিভে যায়
অক্লেশে---
ভোর হয়,
নিজের অন্ধকার অহমিকায় কপট রাগী মুখগুলি
ঘুমের আদরে ফুলেল হয়ে ওঠে--
বল তো, উপেক্ষা করে থাকা যায়? 
মনের খবর রাখে না আশ্চর্য ভাবে কেউ
জানতে চায় না চুলের ওপর ধুলোর আস্তরন 
ঠিক কেমন গন্ধে ঘুরপাক খায়-
ঠোঁটের বারান্দায় গুঁড়ো চুলের স্তাবকেরা
অবহেলায় কাউকে ঈর্ষা দিতে নারাজ
এমনকি চিবুকের তিলের গভীরতা কার প্রতীক্ষায়
দিন দিন তিলে তিলে বেড়ে উঠছে ,
এ রহস্য সমাধান করতে পারে না 
বিশ্বের তাবর তাবর গোয়েন্দাকুল--
তাই GOOGLE SEARCH এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না
ঠিক পারে না যেমন যুদ্ধে বিদ্বস্ত কোন দেশের 
হারিয়ে যাওয়া শিশুর খোঁজএনে দিতে।