আমি শামুকের চলা দেখেছি, জানালা গড়িয়ে প্রায় পুকুর দুপুর
নাহার আপার স্নিগ্ধতা মেখেছি ভরা বৃষ্টিতে স্নাত কুয়োর অদূর
দিব্যি ভোরে বিছানা ছেড়ে ছুটে গিয়ে কুড়িয়েছি ফুল
প্রিয় শিউলি অথবা বকুল।
প্রথম যেদিন পাহাড়ে উঠেছি
নিয়েছি ফুসফুসে বাতাস, শৈশব প্রাণে প্রদীপ্ত প্রবাল
পাহাড় শীর্ষ চূড়ে দাঁড়িয়ে
প্রতিজ্ঞায় শাণিত হয়েছি
দৃষ্টিসীমায় থাকা বাড়িঘর সব হয়ে গেছে ছোট খুব।
ছোট হয়ে গেছে আমার দূরের দোতলা স্কুল স্বরুপ।
পাহাড় ছেড়ে এসে দাঁড়াই
ঢেউ উচ্ছ্বাসে নিমগ্ন হই
ভেসে আসা মার ভৎর্সনায়
সম্বিত ফিরে এলে শুনি
মা ডাকছেন আমায়
স্কুল ঘরের খুব কাছে বসে থেকে ঝিমধরা দাওয়ায়
মগ্ন চৈতন্যের সমুদ্র উচ্ছ্বাস দূরের হাওয়াতে মিলায়।
সদ্য চলে যায় ট্রেন
রেললাইনের ধারে
অনুভব করেছি মাকে
সে যন্ত্রণায় কত কাতর ছিল
মা হতে আমার চায়নি সে
উড়েছি স্বপ্নের ডানা মেলে
চুম্বন যে কত করেছি তোমায় ভালবাসা
রতিসুখে উঠেছি মেতে
মাকে আটকে থাকতে দেখেছি পাশের বদ্ধঘর
সে কি সে কি
সে কি আমার আঁতুড় ঘর?
বৃষ্টি নিষিক্ত হয়েছিল সেবার প্রচুর ঝড়ের পর
গোধূলি শীত বেলায় গাভীন ঘ্রাণ হারিয়েছিল নারী তার
আকাঙ্খায় আপ্লুত হয়ে ভেসে ছিল সম্ভবা
সন্তান কোলে নিতে
তরঙ্গহীন সকাল সমুদ্রে
সে চেখে দেখেছে সূর্যরঙ
মন্দা মৃদুর বাতাস জাগিয়েছেও প্রেমভাব
কিন্তু মা আমার আসেনি
চোখের কোণে পড়েছে গাঢ় কালো দাগ
‘একদিন সময় হলে স্নান শেষে
রোদমাখা বিকেলে বেড়িয়ে যাবো এসে’।
