Showing posts with label খেরোখাতা. Show all posts
Showing posts with label খেরোখাতা. Show all posts

Thursday, 2 August 2012

প্রিয় বাবার প্রতি ভালবাসা



প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালবাসা কোন দিবসের উপর নির্ভর করে না। তবুও দিবসগুলো আমাদের অন্তত কিছু ভাললাগা স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, কিছু অমূল্য সময়কে মনে করিয়ে দেয়, যা কেটেছে ঐ প্রিয় মানুষটির সঙ্গে। বাবা দিবস বলে কখনও কোন দিবস পালন করিনি। বিশেষ কোন আয়োজন হয়নি। বাবাকে গলা জড়িয়ে বলা হয়নি, “বাবা তোমাকে ভালবাসি”। কেন যেন মনে হয় যে, এতোটা যান্ত্রিক এখনও হয়ত হইনি, যতটা যান্ত্রিক হলে বাবার জন্য আলাদা সময় বের করতে হয়।

আমার বাবাকে ছোটবেলা থেকে দেখেছি সমাজ, সভ্যতা, ধর্মীয় জ্ঞান থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছু আমাদের দুই ভাইবোনকে হাতে ধরে ধরে শেখাতেন। যদিও সময় খুব কম পেতেন, প্রতিদিন আব্বু যখন উনার ব্যবসার উদ্দেশে ঘর থেকে বের হতেন, আমরা ঘুমিয়ে থাকতাম। আবার যখন বাড়ি ফিরতেন গভীর রাতে তখনও আমরা ঘুমাতাম। পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার এবং কলতাবাজার এলাকায় কেটেছে আমার শৈশবের শুরু থেকে অনেকটা অংশ। আমাদের প্রতিবেশী এক বিহারী লোক প্রায়ই আমার আম্মাকে বলতেন, “ইমরান তো উস্কি আব্বাকো নেহি পেহেচানেগা”। আম্মা মুচকি হাসতেন। অনেক সময়ই আব্বুর ঘরে ফেরার আওয়াজ পেলে আমি জেগে উঠতাম। যে কোন বিশেষ দিন, যেমন ২১ ফেব্রুয়ারী, ১৬ ডিসেম্বর, শবে বরাত, ইত্যাদি দিনগুলোতে আব্বা পুরান ঢাকার কাচ্চি বিরিয়ানি নিয়ে আসতেন। আদর এবং শাসনের দ্বৈত রুপ দেখেছি আমার বাবার মধ্যে।

আমার বাবা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের সময় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর রেগুলার ফাইটার হিসেবে। এক অপারেশনে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং আহত অবস্থায় অনেক লম্বা সময় তিনি হাসপাতালে ছিলেন। যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে সবাই ধরে নিয়েছিল যে আব্বা আর জীবিত ফিরবেন না। কিন্তু তিনি ফিরেছিলেন বিজয়ীর বেশে। আমার দাদার কাছে শুনেছি, আব্বা খুব রাগী ছিলেন ছোটবেলা থেকেই। কোথাও কোন অন্যায় উনি সহ্য করতেন না। মৃত্যুকে কখনও ভয় করতেন না। সদরঘাটের অনেক অস্রধারী সন্ত্রাসীকে উনি খালি হাতে পিটিয়েছেন। জীবনে উনি কোন নেশা করেননি। হারাম উপায়ে উপার্জন থেকে সর্বদা দূরে থেকেছেন। ছোটবেলা থেকেই প্রচুর পরিশ্রম করেছেন পরিবারের জন্য। ছোট ভাইদের মানুষ করেছেন, নিজের পায়ে দাড়াতে শিখিয়েছেন। উনার সততা এবং পরিশ্রমের জন্য উনি এখনও আমাদের গ্রামের বিভিন্ন জেনারেশনের কাছে জনপ্রিয়। 

আমাদের দুই ভাইবোনকে আব্বা সেই সব কিছুই না চাইতে দেবার চেষ্টা করেছেন, যেটা উনি ছোটবেলায় পাননি। আব্বা মেধাবী ছাত্র ছিলেন, কিন্তু পারিবারিক কিছু কারনে গ্রাজুয়েশন করতে পারেননি। কিন্তু আমাদেরকে উনি লেখাপড়ার কোন বিষয়ে কখনও কমতি রাখেননি। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, ধন সম্পদ মানুষকে বড় করে না, মানুষ তার মনের সমান বড়। সবসময় সবাইকে সমান দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। মানুষের যে কোন সমস্যায় এগিয়ে যাওয়াতে আব্বা সবসময় উৎসাহ দিতেন এবং এখনও দেন। মাঝে মাঝে আমি মনে মনে ভাবি যে, আমি কি আব্বার মত হতে পারব? পরমুহুর্তে চিন্তা আসে, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি পারব না, এটা হতেই পারে না।

আপনি আমাদের গর্ব আব্বা। কোন বিশেষ দিনের জন্য আপনার প্রতি শ্রদ্ধা বরাদ্দ থাকবে না। আপনি আমাদের মনের মণিকোঠায় থাকবেন সর্বক্ষণ। সামনাসামনি হয়ত কখনও বলা হয়নি। কিন্তু পরোক্ষ ভাবে বলছি, “আব্বা, আপনাকে আমি খুব ভালবাসি।“

Thursday, 24 May 2012

আজ সকালের আমন্ত্রণে..

ভোরবেলায় হাঁটতে বেরিয়ে নিচে গেটের কাছে আটকে গেলাম, কোলাপ্‌সিবলে তালা আটকানো। রোজই থাকে, আমার ভদ্রলোকটি বাড়িতে থাকলে তার পকেট থেকে চাবি নিয়ে আমি বেরিয়ে যাই, কদিন ভদ্রলোকটি বাড়িতে নেই কাজেই ভরসা দোতলার সিদ্ধার্থবাবু। পাঁচটা কুড়ি নাগাদ তালা খুলে মৌকে সঙ্গে নিয়ে বাইকে করে বেরিয়ে যান, বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রাতঃভ্রমণের উদ্দ্যেশ্যে। আজ কোনো কারণে তিনি বেরোননি, হয়তো বাড়িতেই নেই। গোগোলের উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হয়েছে তিরিশ তারিখে, ছেলেকে নিয়ে তাঁরা হয়ত কোথাও বেড়াতে গিয়ে থাকবেন। গত দুসপ্তাহ ধরে আমারও প্রাতঃভ্রমণের ঠিকানা ওই বি গার্ডেন। যেহেতু চাবি নেই ঘরে তাই একটু দেরি করেই বেরুচ্ছি এই কদিন, সাড়ে পাঁচটারও পরে। পাড়ার রিকশাওয়ালা শংকর গলির মুখটায় দাঁড়িয়ে থাকে, রিক্‌শায় চেপে আমি হাঁটতে যাই। ফেরার সময় অবশ্য বাস চালু হয়ে যায়, বাসেই ফিরি। বোটানিক্যাল গার্ডেন অব্দি হেঁটে গেলে বড়জোর মিনিট তিরিশ বা পয়ত্রিশ লাগবে কিন্তু অত ভোরে অক্টোপাশের বাহুদের মত ছড়ানো ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে একা হাঁটা যে মোটেই নিরাপদ নয় বিশেষ করে কোনো মহিলার জন্যে, সে এই এলাকার সকল বাসিন্দাই একবাক্যে বলে থাকেন। আমি নিজেও যে জানি না তা নয়। কাজেই শংকর জিন্দাবাদ।

আধঘন্টা গেটের সামনে সিঁড়িতে বসে থাকার পর কার একটা দরজা খোলার শব্দ পেলাম, দু-তিনজন মানুষের পায়ের শব্দও পাওয়া গেল, নিচে নামার। তিনতলার নতুন ভাড়াটে ভদ্রলোক ও তার মা এবং গিন্নি। ভদ্রলোক অফিস যাবেন বলে মা এবং গিন্নি নিচে গেট অব্দি ছাড়তে এসেছেন। গেটের তালা খুললে আমি উঠে বেরিয়ে গেলাম। শংকর অপেক্ষা করে করে চলে গেছে, হয়ত ভাড়া পেয়ে গেছে। বাসস্ট্যান্ড অব্দি গেলাম, যেদিককার বাস পাই- বি গার্ডেন বা ধর্মতলা, তাতেই চেপে বসব, ধর্মতলার বাস পেলে ভিক্টরিয়ায় চলে যাওয়া যাবে। একসময় যেখানে নিয়মিত হাঁটতে যেতাম ভোরবেলায়। গঙ্গার এপারে যবে থেকে ঠিকানা হয়েছে, ভিক্টোরিয়ায় প্রাতঃভ্রমণও শেষ হয়েছে। স্ট্যান্ডে বেলা ছটায়ও কোনো বাস নেই। বাসস্ট্যান্ড যেখানে, সেখান থেকেই শুরু হয়েছে ব্রীজ, দেখলাম বেশ কিছু মানুষ হাঁটছেন ব্রীজের উপর। কেউ এগিয়ে যাচ্ছেন ফ্লাইওভার ধরে, কেউ বা হাঁটা শেষ করে ফিরছেন।

বাসের অপেক্ষায় না থেকে এগোলাম ফ্লাইওভার ধরে। খানিক দাঁড়িয়ে দিক ঠিক করে নিলাম, কোনদিকে যাব। যেদিকে বেশি মানুষকে এগোতে দেখলাম, আমিও সেই পথই ধরলাম। দিক নির্দেশনা জানান দিল সে পথ গেছে কোনা এক্সপ্রেসের দিকে। খানিক এগোতে পুলের আরেকটি হাত বেরিয়ে এল, সে নিয়ে যাবে আন্দুল। আমি কোনা এক্সপ্রেসই পছন্দ করলাম।  উড়ালপুলে হাঁটতে গিয়ে দেখা গেল এই সামান্য চড়াইয়েও হাঁফ ধরছে, বুঝলাম, এই চার বছর ধরে ধোঁয়া গিলে গিলে দম বলে কিছু আর বেঁচে নেই!

পুলের ধার ধরে হাঁটতে হাটতে হঠাৎ খেয়াল হল কাঁচের গুড়োর উপর দিয়ে হাঁটছি। কুচো কাঁচ, টুকরো কাঁচ, পাউডার কাঁচ। কদিন পরপরই ব্রীজে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে, ভাবলাম এখানেও হয়েছে হবে, জানতে পারিনি। কিন্তু ভাল করে খেয়াল করতে দেখা গেল, ভুল ভাবছিলাম, এগুলো গাড়ির কাঁচ নয়, বোতল ভাঙা কাঁচ সব। পুলের দুই ধারেই সরু ফুটপাথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা আধভাঙা সব বোতলও দেখা গেল, ম্যাক্‌ডাওয়েল,  হোয়াইট মিস্‌চিফ আর আরও নানারকম লেবেলের বোতলের সব ভাঙা টুকরো। গাড়ির চাকার চাপে যা কিনা গুড়ো গুড়ো হয়ে ছড়িয়ে আছে পুলময়। মিনারেল জলের তোবড়ানো খালি বোতল, আলুভাজার খালি প্যাকেট সবই আছে সেখানে। বুঝলাম, এলাকার ছেলেপুলেদের সান্ধ্য বা রাত্রিকালীন ঠেক এই উড়ালপুল। রেলিংএর ধার ধরে নিচে তাকাতে বসতি দেখতে পেলাম। উড়ালপুলের ঘোরানো প্যাঁচানো সব বাহুদের ফাঁকে ফাঁকে নিচে কোথাও ঝোপ-ঝাঁড়, কোথাও চায়ের দোকানে ছোটোখাটো জটলা, কোথাও দিনশুরুর ব্যস্ততা সমস্ত দিনের জন্যে দৌড়ুতে শুরু করা মানুষগুলোর মধ্যে।

নিচের দিকে তাকিয়ে মনে পড়ল, দিন পনেরো আগে এখানেই কোথাও বাড়ি বাড়ি কাজ করে নিজের ঠিকানায় ফেরার পথে একটি মেয়ে গণধর্ষিতা হয়েছিল। কতজন ছিল সেই ধর্ষকদের দলে জানা নেই। ভোরবেলায় মেয়েটি যখন উড়ালপুলের তলা থেকে লেংচে লেংচে রাস্তার ধারে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল, তখনও তার ছেঁড়া সায়া আর কোনোমতে গায়ে জড়ানো শাড়িটিতে  টাটকা  রক্তের দাগ। যে পরিমান রক্ত তার ছেঁড়া সায়া-শাড়িতে ছিল, সে নাকি ঋতুস্রাবের রক্তের চাইতেও বেশি। খুব স্বাভাবিক নিয়মেই সেখানে ভীড় হয়, কেউ একজন ছেঁড়া শাড়িটি দিয়ে ঢেকে দেয় মেয়েটির অনাবৃত উর্ধাঙ্গ। মুখে জল ছিটিয়ে তার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টাও করে লোকজন। বেহঁশ পড়ে থাকা মেয়েটির দিকে অজস্র প্রশ্ন ছূঁড়ে দিতে থাকে জমে ওঠা ভীড়- কতজন ছিল? কোথায় করলো? বাড়ি কোথায় তোমার? কেউ একজন পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় মেয়েটিকে। কোথায় নিয়ে যায় কে জানে, হয়ত থানায়, হয়ত হাসপাতালে। সেই থেকে আমার বাড়িতে কাজ করতে আসা মেয়েটি বিকেল বিকেল কাজ সেরে বাড়ি ফিরে যায়, সন্ধ্যে হওয়ার আগেই। তাকেও তো ওই উড়ালপুলের নিচে দিয়ে অন্ধকার রাস্তায় প্রায় আধঘন্টা হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয়।

মন্দিরতলা থেকে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে আবার মন্দিরতলা, আমার দুপাক হাঁটা হয়ে যায় ততক্ষণে। বাড়ছে চলমান গাড়ি-ট্রাক-লরির সংখ্যা। সাঁই সাঁই বেরোয় সব গাড়ি। কেউ ভেঁপু বাজায় কেউ বাজায় না। এই ভোরেও কোনো কোনো গাড়ি থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসা উদ্দাম বাজনা্র শব্দ চিরে দেয় সকালের সমস্ত নৈঃশব্দকে।  ভয় লাগে বিশাল বিশাল লরি দেখে। যদি চাপা দেয় তো আমার এই পলকা প্রাণ ফুঁশ করে বেরিয়ে যাবে খাঁচা ছেড়ে। সরু ফুটপাথ ধরে ফেরার পথ। বাড়ি। খবরের কাগজ আর ধোঁয়া ওড়া চা। সঙ্গে তারা মিউজিকের আজ সকালের আমন্ত্রণে..

Wednesday, 16 May 2012

ডায়রির পুরনো পাতারা

মাথা ঝিম ঝিম করে। চোখের সামনে অন্ধকার। যেন কানামাছি ভোঁ ভোঁ। আমাদের দৃষ্টিসীমা নাকি ছয় কিলোমিটার। আমার চোখের সামনে, যেটুকু দেখতে পাচ্ছি  তবে কী ওটা ছয় কিলোমিটার রাস্তা! কে জানে... শুধু রাস্তাটাই দেখা যায় আর একটা সোঁ সোঁ শব্দ। যেন একঝাঁক মৌমাছি একসাথে গুনগুনিয়ে ভনভানিয়ে চলেছে চলেছে দুই কান জুড়ে, মাথা জুড়ে। রাস্তাটাও কী অদ্ভুত সোজা! কোথাও কোন বাঁক নেই। সোজা, একদম সোজা চলে গিয়ে যেন ঢুকে পড়েছে এক সুড়ঙ্গে। হুঁ। সুড়ঙ্গই তো। ও‌ই তো। শেষমাথায় তো একটা সুড়ঙ্গই দেখা যায়...


বেনজির ভুট্টোকে যারা মেরেছিল তারা নাকি আত্মঘাতী হামলাকারী। কী করে মানুষ আত্মঘাতী হয়? আমার মাঝে মাঝেই ইচ্ছে করে নিজের শরীরে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে একটা বোমা জড়াই। গোটা শরীরে বিষ্ফোরক। না না। কেউ কাছে এসো না। উড়িয়ে দেব আমি। সত্যি বলছি। ঠিক উড়িয়ে দেব আমি সব, সবকিছু। কিন্তু আমি তো বোমা বানাতে পারি না। কেউ আমায় একটা বোমা বানিয়ে দেবে?


কোনা এক্সপ্রেসওয়ে।  গাড়ি ছুটে চলে সাঁই সাঁই, সাঁই সাঁই। বাউল আব্দুল করিম বলেন, গাড়ি চলে না, চলে না চলে না রে। ভুল ভুল। ও‌ই তো অগণিত গাড়িরা সব ছুটে চলেছে অবিরাম, নিরন্তর। সাঁই সাঁই, সাঁই সাঁই। শ্যামসুন্দর। শ্যাম আবার কবে সুন্দর হল? সুন্দর তো রাধা।  তবে কেন শ্যাম ছুটে ছুটে যায় গোপিনিদের কাছে? কে জানে.. কে জানে.. বাউলে কয়, বনমালী তুমি, পরজনমে হইও  রাধা । পরজনম? ধুসস...


ঠান্ডা লাগে। শীত করে প্রচন্ড। শরীরের সব রক্ত যেন হিম ঠান্ডা হয়ে নেমে যাচ্ছে পায়ের দিকে আর তারপর বেরিয়ে যাচ্ছে আঙুলের ডগা দিয়ে, নখের কোণা দিয়ে। আমার দরজা জানালায় রশুনের মালা। ভ্যাম্পায়ারেরা রশুনের গন্ধ সইতে পারে না। তবু প্রতি রাতে ভ্যাম্পায়ার আসে। ওদের দাঁতে, নখে রক্ত, ঠোঁটের কষ বেয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে। আমি পড়ে থাকি নির্জীব, নি:স্তব্ধ হয়ে। জানালার পর্দারা কাঁপে থিরথির। জানালার কাঁচে জলের খেলা, যেন রাধা নাচে যমুনাতীরে। আমার শীত করে, ভীষণ শীত।।


জলের উপরে বাড়ি বানায় কারিগর। চৌকো চৌকো খোপ খোপ। পুকুর আর পুকুর থাকে না। খোপ খোপ হয়ে যায়, চৌকো চৌকো সব খোপ। না না পায়রার খোপ নয়। ওটা তো বাড়ি! মানুষ থাকবে ওতে। জলের উপর বসত। কি ঘর বানাইলাম আমি শূন্যের মাঝার। গানেরা শুধু বদলায় না। যেমনটি ছিল তেমনটিই থেকে যায়...


আমার ঘুম আসে না...


চোখ শুধু বুজে আসে আপনা থেকে। শীতল স্রোত বয় শরীর জুড়ে। অন্ধকার শহর জুড়ে সার সার বাতি। হিম বাতাস বয় চরাচর জুড়ে... আমার ঘুম আসে না... ভাল লাগে না...

০২-০২-০৮