Showing posts with label মনখেয়াল. Show all posts
Showing posts with label মনখেয়াল. Show all posts

Monday, 14 May 2012

ওই তো সামনে দানিয়ুব..

এক ভাঙা দেওয়ালের সামনে শুভ্র রাত্রিবাস গায়ে দাঁড়িয়ে তিন নারী, নিজেদের মধ্যে ইশারাইয় কথা বলে, চপল হাসিতে গড়িয়ে পড়ে এ ওর গায়ে। শুভ্র স্বচ্ছ রাত্রিবাসের ভেতর পরিষ্কার দৃষ্টিগোচর হয় কারুকাজ করা সাদা অন্তর্বাস। ওরা দাঁড়িয়ে আছে তার বাংলোর সামনে। ওদের দৃষ্টি নিবদ্ধ তার বাংলোর দিকে, তার দিকে।


এক ঘরের ভেতরে সে , বসে আছে বিছানায়। শুভ্র রাত্রিবাস গায়ে দাঁড়িয়ে তিন নারী তার ঘরে। দুজন দরজায় দাঁড়িয়ে তামাশায় মগ্ন। তৃতীয়জন তার পাশে, তার কাছে। হাতে হাত। চোখে চোখ। উশখুশ সে।  উদ্বিগ্ন দুচোখ বারে বারে দেখতে চায় দরজার এপাশে কে কী করছে। কিছু একটা খুঁজছে। কাউকে খুঁজছে, আমাকে কী?

সেলফোন হাতে নিয়ে ছবি দেখার চেষ্টা করি। তুমি নাকি অনেক ছবি তুলেছ। হঠাৎ বুঝতে পারি এই ফোনটা আমার অচেনা! এক অদ্ভুত শ্যাওলা সবুজ সেলফোন হাতে নিয়ে আমি তার কাজ-কর্ম বোঝার চেষ্টা করি। শুধাই তোমাকে, এই ফোন? তুমি কাচুমাচু, যেন সামনে দাঁড়িয়ে ছড়ি হাতে দিদিমণি, বললে, এর ফ্রেশিয়াটা বদলী করেছি! আহত দুচোখ আমার তোমার পরেই নিবদ্ধ। নীরব প্রশ্নের ঊত্তরে তুমি বলে  ওঠো, ওই ফোনটা আমার পছন্দ ছিল না!

আমি শুনতে পাই, আমার ভাল লাগে না। আমার ভাল লাগে না। ওখানে আমার ভাল লাগে না। আমি পিছোতে থাকি। আমার পেছনে খোলা দরজা। পিছু হেঁটে আমি পেরিয়ে যাই বাগান। তোমার দরজায় স্থির দুই চোখ আমার। তুমি কী বেরিয়ে আসবে? আমাকে ডাকবে কী তুমি? আমি মুখ ঘুরিয়ে দৌড়ে পেরিয়ে যাই পাহাড়ী রাস্তা, দ্রুত নেমে যাই ঢাল বেয়ে। হুমড়ি খেয়ে পড়ি আবার উঠে দৌড়াই। ওই তো সামনে দানিয়ুব। ওপারে আলোকিত শহর, এপারে পাহাড়চুড়ার বাংলোয় তুমি আর শুভ্র-স্বচ্ছ রাত্রিবাসে তিন নারী.. 
  
 ০৯-০৩-০৭

Thursday, 1 September 2011

চিঠি .

জয়মালা বাগচী

কেমন আছো গো তুমি
বললে যে চিঠি লিখবে, আর তো লিখলে না...
জান, আজ সকাল থেকেই এখানকার আকাশটা বড় আবছা।
কোথাও বুঝি বৃষ্টি হচ্ছে কাছে-পিঠে
তোমার কলকাতার আকাশে বোধহয় রোদ্দুরে ঝলমল্।
আচ্ছা, মুক্তার মা কি আবার দেরী করে এসেছে কাজে?
কাকিমা আজ কি কি রান্না করল? কাকু ফিরেছে দিল্লী থেকে?
তোমার ঐ প্রোমোশনটা আটকে ছিল, হয়ে গেছে?
বৌদি আমার কথা কিছু জিজ্ঞেস করে তোমায়?
এখানে কেউ রবি ঠাকুরকে চেনে না,
বড় কষ্ট হয় জানো...
কষ্ট আরো অনেক কিছুতে হয়, তুমি তো আর শুনলে না... 
কিন্তু শুধু যে তোমাকেই জানানোর ছিল
আমার নাম মাধবীলতা, তুমি ডাকতে মধু বলে...
এমনি কত চিঠি লিখেছি তোমায়্।
আজ একটা কথা বলব, রাখবে?
যদি ভুল করে কখনো 
আমার লেখা  কোনো চিঠি পড়ে তোমার হাতে, 
উত্তর দিও না তুমি, শুধু আমায় লিখতে দাও।।









Tuesday, 9 August 2011

আশাবাদী মন অবিরত...


 আশাবাদী মন অবিরত.......
ইমরান আল হাসান

পড়েছি কেরানীর চাকরির জন্য আবেদন
পড়েছি বিনা বেতনে অধ্যয়নের আবেদন
লিখেছি অধমের বিনীত নিবেদন।
তাহলে কি কোমলমতি আমাকে
শেখানো হয়েছিলো দারিদ্র ?
হয়তো তাই,
নয়ত এতো বড় হয়েও কেন ভয় পাই
ভয় পাই আশাবাদী হতে,
ভয় পাই স্বপ্ন দেখতে।

আমি কি পারবোনা ঐ আকাশ ছুঁতে,
পারবোনা কি জীবনকে পরিপূর্ণতায় সাঁজাতে?
যেমনটা পারে ঐ লাখপতি আর কোটিপতিরা।

তাদের কি চারটা হাত না দশটা?
তারা কি আমার চেয়ে অনেক বেশী লম্বা না খাটো?
তারা কি অনেক ফর্সা না কালো?
তাদের কি দুটো শিং আছে?
 কই!! না তো............!!

খুঁজে পেতে দেখি, তারা আমার মতোই,
তারাও মানুষ, আমিও তো মানুষ
তবে কি বলবো এটা সৃষ্টি কর্তার পক্ষপাতিত্ব?
ছি! ছি! এসব কথা মুখে আনাও তো পাপ।
তবে...............

আমার আশাবাদী মনে
একটাই উত্তর মেলে ঘুরে ফিরে
আমি পারি, পারবো, আমাকে পারতেই হবে
কঠিন হতে পারে,
কিন্তু অসম্ভব বলে কিছু নেই পৃথিবীতে।।

***********************

Tuesday, 19 July 2011

স্মৃতিপুর

মধ্যরাতের বৃষ্টি কার ঘ্রাণ ছড়িয়ে যায়? কার...? কার...?কার ? ঘ্রাণ...? ঘ্রাণ...? ঘ্রাণ? রিন রিনে একটা মিষ্টি সুর, নহলী শিকারী চিলের মত ছোঁ মেরে হাতে তুলে নেয় মুঠোফোন, হাত বুঝি অবিশ্বাস করছে মস্তিস্ককে, একবার নয় পাঁচবার এসেছে একই বার্তা, এটি একটি প্রত্নভাষা অনুবাদ করতে হলে বৃষ্টি চাই, অঝোর বৃষ্টি, চাই মধ্যরাত, তাইকি অঝোরে ঝরছে মধ্যরাতের আকাশ! নখের আচড় পড়ে বিস্মৃতির জঞ্জালের স্তুপে। খোলা জানালা দিয়ে জলের ঝাপটা এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে পায়ের পাতা, শাড়ীর পাড়, অন্ধকারে চিকচিক করছে জল, বুকের ভেতর ছলকে পড়ে সেই জল ছলাৎ ছল, ছলাৎ ছল, বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা হয় কপালে, বিস্মৃতির জঞ্জাল ধুয়ে গিয়ে বেরিয়ে পড়ে অন্যজন্মের শিলালিপি, বংশীয়াল! কোথায় তুমি? তোমার বাড়ীর ছাদে ফুলের ভারে কি নুয়ে পড়েছে স্নানমগ্ন কদমের ডাল! মধ্যরাতের বৃষ্টি এমন অর্থবহ করে তুলবে আমার কাছে তুমি ছাড়া আর কে?

Sunday, 17 July 2011

না দেবনা লেখা

মঞ্জুশ্রী রায়চৌধুরী

শস্তায় বিকোচ্ছে মনফসল
কারুবাসনা ঢঙে-
না দেবনা লেখা।

লাঠি নিয়ে সম্পু বসে নেই
গলা ধাক্কা দিতে-
না দেবনা লেখা।

আমাকে সে, সে-কে আমি
ন্যেকুপুষু মিউমিউ
না দেবনা লেখা।

কুয়াশা ঘিরছে,
ঘামছে উইন্ডশীল্ড
না দেবনা লেখা।

অস্থির পড়ুয়ার
বিনবিন আলপিন
না দেবনা লেখা।

ফ্যাতরাফাই বুক
উসকানো কথায়
না দেবনা লেখা।
*********

Wednesday, 15 June 2011

একটি শখের দুঃস্বপ্ন অতঃপর ...........

প্রচণ্ড শব্দে আবার ঘুম ভেঙ্গে যায়। চোখ মেলে দেখি, একি!! আকাশ আমার এতো কাছে কেন? চাঁদটা এতো বড় কেন?  অবাক হয়ে দেখি, বুঝে উঠতে একটু সময় লাগে, একসময় বুঝতে পারি আমি জেগে নেই, ঘুমিয়ে আছি আর ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছি।
তাহলে প্রচণ্ড শব্দে আমার ঘুম ভাঙল কি করে, এমন অনেকগুলো প্রশ্ন সেই নীলাভ গোলাপি মেঘ হয়ে আসে। ভাবতে ভাবতেই বুঝতে পারি, এ যে আমার ঘুমের ভিতরেই জেগে উঠা, তারমানে!! আমার ঘুমের ভেতরেই ঘুম ভেঙ্গেছে!!?? কেন?? নতুন করে স্বপ্ন সাজাতে??
উফ!!! এ কেমন অনুভূতি....... 
তবে কি এ স্বপ্ন কোনদিন শেষ হবে না, অনন্তকাল ধরে কি শুধু দেখতেই থাকব??
না......... এ হতে দেয়া যায় না। আমাকে জেগে উঠতেই হবে, পরিপূর্ণ জেগে উঠতে হবে, ঘুমের সকল স্তর থেকে একে একে জেগে উঠতে হবে।
ঐ তো, ঐ তো চাঁদ ছোট হচ্ছে, আকাশ দূরে সরে যাচ্ছে। তাহলে কি আমি জেগে উঠছি?!?
ঝিম ঝিম শব্দে ক'টি ঝি ঝি পোকা ডেকে যাচ্ছে অহেতুক। তবে কি আমি সত্যিই জেগে উঠছি........... কেউ আমাকে ডেকে নাও...............আমাকে চিমটি কাটো কেউ.........আ...আমি জেগে উঠতে চাই........... আর দেখতে চাইনা এই শখের দুঃস্বপ্ন।
চিৎকার করতে করতে আমি কি ক্লান্ত হয়ে পড়ছি.............. আমি কি আবারও ঝিমিয়ে পরছি..............ঘুমিয়ে পড়ছি ক্লান্ত হয়ে..................না....আ......আ..................



এই কি বলছ ঘুমের ভিতর এইসব??  কত বেলা হয়েছে সে খেয়াল আছে..............??

Tuesday, 14 June 2011

একটি শখের দুঃস্বপ




 দুঃস্বপ্ন দেখতে কারোই ভালো লাগার কথা নয়। কিন্তু আমার একটা দুঃস্বপ্ন আছে, যেটা আমি খুব শখ করে লালন করি। ইচ্ছে হলেই চোখ বন্ধ করে দেখি। প্রচণ্ড ভয়ে ঘেমে উঠি, জেগে উঠি, চমকে উঠি, আবার ঘুমাই, আবার দেখি, আবার জাগি, এ এক অদ্ভুত অনুভূতি। বাস্তব এবং পরাবাস্তব জগতের মিশ্রণে জগাখিচুড়ী পাকানো এক আজব স্বপ্ন। প্রচণ্ড স্বপ্নবাজ হওয়ার কারনেই বোধহয় শখ করে দুঃস্বপ্ন দেখি, ভাবি, লিখতে বসি একে নিয়ে। কিন্তু কি দেখি সেই স্বপ্নে যা আমাকে এতো ভাবায়, জাগায়?? এই প্রশ্নের উত্তর আমি নিজেও জানি না, কেন জানি না তা ও জানি না। অবচেতন মনের কোন এক কোনায় ছোট্ট একটুকরা কালো নয়, নীলাভ গোলাপি মেঘ হয়ে এটা দেখা দেয়। স্বপ্নের ভেলায় ভেসে ভেসে, ভাবনার সমুদ্দুর পার করে অবিরাম শুধু ছুটে চলি সেই শখের দুঃস্বপ্নের দিকে। আমি যেন কোন পথিক নই। এ যেন আমার অতি পরিচিত পথ, যেন কত সহস্র বছর ধরে এই পথ পাড়ি দিয়ে ঢুকে গেছি ব্যাপক ঘোরের মাঝে।
রিমঝিম বৃষ্টি সেই দুঃস্বপ্নের খুব প্রিয়। আমার মনের ঘরের ছাদে যখন রিমঝিম বৃষ্টি পরে, সেই শব্দে আমার চোখ জুড়ে নেমে আসে নিস্তব্ধ ঝিমুনি, এই ঝিমুনি মূহূর্তে সে আসে চুপিচুপি, ধীরপায়ে, আলতো করে স্পর্শ করে আমার গাল, চোখ, আর একটু ঘুম ঢেলে দেয় আমার চোখে.......এরপর.............. আমাকে প্রচণ্ড নাড়িয়ে, কাঁপিয়ে দিয়ে যায়। স্বপ্ন ভেঙ্গে অবাক হয়ে চারিদিক দেখি, সব অচেনা, অজানা মনে হয়, নেশার্ত ঘোরলাগা মনে হয় নিজেকে। মনে হয় আমি যেন কোন ভিনগ্রহে চলে এসেছি। এমন লাগবেই না কেন?? আমি তো তখন এতো গভীরে ছিলাম যেখান থেকে উঠতে একটু সময় লাগে। সেই ঘোরের ভিতর থাকতে থাকতেই আবার স্বপ্নাচ্ছন্ন হই, আবার চমকাই, আবার জাগি, আবার ঘামি, আবার ঘুমাই, আবার দেখি, আবার জাগি, আবার চমকাই, আবার ঘুমাই, আবার দেখি আমার প্রিয় সেই শখের দুঃস্বপ্ন....................   

Saturday, 14 May 2011

সত্যিকথা


এই মনফসলে স্বপ্ন বিভাগ রেখেছি, এবার ভাবছি সত্যি বিভাগও রাখি। কেন বলি? যখনের কখা বলছি, তখন আমার লেখা কোনো দেওয়াল পত্রিকাতেও বেরয়নি, অথচ আমি.....

হেলে ধরতে হিমসিম আমি কিনা প্রথমেই বাড়িয়েছিলাম হাত কেউটের দিকে আর ছোবল খেতেই অজ্ঞান। মানে লেখার শুরুতেই লেখা পাঠিয়ে বসেছিলাম দেশ’-এ। বুকে বিশ্বাস, বাকী লেখকদের ছুটি করে দিয়ে আমার লেখা নিয়ে চলবে নাচানাচি। তো পরিণতি যা হবার তাই হল। পাঁচমাস বাদে আপনার লেখাটি মনোনীত না করার জন্য আমরা দুঃখিতজেনে দুঃখে আমি দুভাগ হলাম এক বন্ধুর পরামর্শে। এক ভাগের মঞ্জু গেল লিটিল ম্যাগের দিকে আরেকভাগের আমি বাণিজ্যিক পত্রিকার দিকে। ইতিমধ্যে কিছু খুচরো প্রেমও জমেছিল ই-পত্রিকাগুলো ধরে। ভাগ্যিস বন্ধুর কথা মত আমি চলেছিলাম সেদিন....

লিটিল ম্যাগে লিখতাম আর বাণিজ্যিক পত্রিকাগুলোয় বেরনো লেখকদের নাম তালিকায় জুলজুল চেয়ে ফোঁসফোঁস নিঃশ্বাস ফেলতাম। ভাবতাম কবে আমি দেখব আমাকে ওখানে!!!!!! তারপর স্বাভাবিক কি অস্বাভাবিক কোন নিয়মে জানিনা, বেশ কবার লেখা বেরলো সাপ্তাহিক বর্তমান, নিউজবাংলা, সংবাদ প্রতিদিনতথ্যকেন্দ্রে

এক তো বাণিজ্যিক পত্রিকা একটা পরিচিতির জায়গা, দুই- কাগজগুলোর হিউজ সার্ক্যুলেশন আর তিন হল তাদের কাজের শেষে মিঠে নোটের সম্মান। কিছু না কিছু তো মানুষ চায়। হয় নাম, নয় টাকা। বাণিজ্যিক এই পত্রিকাগুলোর ক্ষমতা দেখি এই দুটো দিকেই বেশ। এসব তো আমি অনেকদিনই জানি, আজ হঠাত্ লিখছি কেন? এইজন্য, যে দেশ-এর বিভাগীয় সম্পাদক হর্ষ দত্তর কাছ থেকে আপনার গল্প কষ্টছোঁয়া স্বপ্নপথ বেয়েমনোনীত, যথাসময়ে প্রকাশিত হবে লেখা একটা চিঠি পেলাম বলে। প্রথম লেখা ফেরত্ এসেছিল যখন, তখন থেকেই ও ঘর বড় দূরের, বড় অন্যের, আমার কান্নার ও কামনার ছিল বলে। আমার লেখা এবার ফেরত আসুক, ফেরতই আসুক নাহয় সবকটা। তবু সেদিনের মত ভাঙবো না। ব্যস, ও ঘরে আমার ঢোকার ছিল... ঢুকেছি। ঢুকতে না দিয়ে বের করে দেওয়া সইছিল না..... সইছিল না কিছুতেই। এবার যদি বাকীগুলো প্রকাশ পায় তো বেশ- সেগুলো হবে বোনাস, আমার উপরী। আমার প্রাপ্তির কোটা আজই ফুলফিল্ড।  

Sunday, 8 May 2011

যৌনতার অধিকার ও…..



এই ইনকমপ্লিট শিরোনাম ইচ্ছে করেই। নিজের মনোভঙ্গী সম্পর্কে আগাম জানান দেব না। কেননা আমি যা ভাবি আর সমাজ যা ভাবে সেখানে আমার অবস্থানটা ঠিক কোথায়- কাছে না দূরে, তা জানতে চাই। তাবলে একেবারেই বলব না এমন নয়, তবে বাকীদের ভাবনাপথের হদিশ চাই আগে। কথা দিলাম অভিমতের অভিমুখ দেখে বদল করবো না নিজের প্রত্যয়। কেননা আমি কী ভাবি তা একশো শতাংশ স্পষ্ট আমার কাছে। তাই এই লেখার সঙ্গেই সেই বিশ্বাস-কথাও এখুনি লিখে ফেললাম.... খালি জানালাম না। কথোপথনের আঙ্গিকে যা লিখছি, তা টিভির একটি চ্যানেলে দেখা- মন, নীতিবোধ, শরীর, সমাজ ইত্যাদি ভাল রাখার উপায় হিসাবে বিভিন্ন মনস্তত্ববিদ ও আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে ফোনে লাইভ ইন্টারাক্সনের একটা অনুষ্ঠান। দেখতে-দেখতে মনে নানান কথা উঠছিল, নানান উত্তরও খুঁজছিলাম। পার্টিকুলার এই ব্লগঘরে যেহেতু বিভিন্ন বয়সের মানুষজনের আসা-যাওয়া, তাই এখানেই লেখাটা রাখলাম। যে কথাটা মনে উঠেছে ও বাকীরা যা মনে করছে তার মধ্যের সমতা-বিষমতার আন্দাজ পেতে চাই ঠিকঠাক।

টিভি চ্যানেলে মতামত বাঁটোয়ারা করতে থাকা বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা সমাধান দিতে চাওয়ার অনেস্ট ইচ্ছে নিয়ে বলবার কিছু নেই, কেননা তাঁরা সত্যিই অনবদ্য। কিন্তু যে সব ফোনপত্র আসে, তা থেকে কিছুটা হলেও তো আন্দাজ পাওয়া যায়, যে সমাজ কোন পথে চলেছে? উদাহরণ- 1.

         আমি অমুক বলছি। জানেন দিদি, আমার স্বামী একেবারেই ভাল না। বিয়ের প্রথম দিনই বুঝেছিলাম এর সঙ্গে আমার জমবে না। আমার বয়স 26, একটি সন্তান আছে। ও এত খারাপ ব্যবহার করে.. বাড়িতে কেউ এলেই ওর রাগ বেড়ে যায়। তারা চলে গেলে কখনো- কখনো রেগে উনি জিনিসপত্রও ছোড়াছুড়ি করেন। আমি খুব প্রবলেমে দিদি।

মনস্তত্ববিদ- উনি কেন রাগারাগি করেন, বোঝার চেষ্টা করেছেন? ওঁনার কাজের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হচ্ছে নাতো বা আপনার সঙ্গে উনি একটু বেশী সময় কাটাতে চাইছেন এমন নয়তো?

অমুক - না, না তা নয়। কাজের জায়গাটা ওর ব্যাপার- আমায় বলে না, আমি জানতেও চাই না। আসলে সবসময় খ্যাচখ্যাচ চলে, আমাকে বাড়িতে আটকে রাখার চেষ্টা করে, ওর সঙ্গে কেন গল্প করিনা, কথা বলিনা, এইসব....

মনস্তত্ববিদ-  তা গল্প করেন না কেন? আপনি বিয়েটা কী নিজে করেছেন?

অমুক - হ্যাঁ দিদি নিজেই, কিন্তু তখন তো আর..... অস্থির আছি দিদি, সমস্যাটা খুব গভীর- বেড়োবার রাস্তা পাচ্ছিনা.....

মনস্তত্ববিদ-  কিচ্ছু অসুবিধে নেই, এটা কোনো সমস্যাই না। আপনি ফোনটা রাখুন
         ও শুনতে থাকুন....

অমুক -   না দিদি লাইনটা ছাড়বেন না। আসলে ছেলেটা তো আমার স্বামীর না,
নীচের তলার ফ্ল্যাটে থাকে অখিলেশ, তার। জানেন দিদি, অখিলেশ না, ছেলের কোনো দায়িত্ব নেয় না। কখনো দুটো চকলেট, একটা খেলনা, ড্রইংবুক এইসব দিয়ে চালাচ্ছে আর স্বামী না থাকলে..... আমিও দিদি ওকেই ভালবাসে ফেলেছি জানেন।
        
মনস্তত্ববিদ-  কী করে জানলেন যে ছেলেটি অখিলেশের? আপনি স্বামীসঙ্গ করেন
         না?

অমুক -  হ্যাঁ দিদি, তা ঠিক আছে। কিন্তু বিয়ের তিন বছর অবধি ছেলেমেয়ে
         না হওয়ায় ডঃ দেখিয়েছিলাম, তখনই জেনেছিলাম ওর স্পার্ম কাউন্ট...

মনস্তত্ববিদ-  ও বুঝেছি, তা স্বামীকে কী বুঝিয়েছেন? ছেলেটা কোথা থেকে?

অমুক -  ঐ যে তখন ডঃ দেখাচ্ছিলাম না, তো স্বামী ভেবেছেন তাতেই....

মনস্তত্ববিদ-  বেশ, এখন আপনি কী চাইছেন?

অমুক -  ছেলেটা যে অখিলেশের তা অখিলেশ জানে। এখন সেটা ও ভালমত
         বুঝুক, ছেলেকে বাবার মত ভালবাসুক। তাছাড়া আমি চাই
         অখিলেশকেই আমার ছেলে বাবা বলে ডাকুক। কিন্তু অখিলেশ শুধু
         আমাকেই...... আপনি দিদি বুঝতে পারছেন?  

মনস্তত্ববিদ-  এ ব্যাপারে আপনার স্বামীর সঙ্গে কথা বলুন। এভাবে তো হবে না
ভাই…. আপনাকে সেক্ষেত্রে ডিভোর্স নিতে হবে ও অখিলেশের সঙ্গে নতুন করে....

অমুক -  না না না...... ডিভোর্স চাই না দিদি। অখিলেশের তো তেমন কিছু
         রোজগার পাতি নেই, আমার স্বামী এমনিতে খুব ভাল। তাছাড়া
         নীচেরই ফ্ল্যাটে.....  

মনস্তত্ববিদ-  বাঃ, আপনি তো খুব সাহসী মহিলা। সন্তান কামনায়.....
    তা বেশ। আপনার শরীরের ওপর সর্ব প্রথম আপনারই অধিকার।        তাই তা নিয়ে আপনি কী করবেন তা আপনি জানেন ও সেইমত  
    চলেছেন। ঠিকই তো আছে, সমস্যা কোথায়?

অমুক -  সমস্যা হচ্ছে আমার ছেলেটাকে নিয়ে। সে কখনো আমার স্বামীকে বাবা         বলছে কথনো অখিলেশকে। জানেন দিদি, অখিলেশ সব জেনে বুঝেও
         কোনো দায়িত্ব নিচ্ছেনা, কেমন যেন সরে থাকছে। অথচ......
         দিদি আমার রাতের ঘুম চলে গেছে। আপনি আমার অবস্থায় পড়লে
         কী করতেন যদি সেটা বলেন, আমি এখন তাই করবো। আমায়
         বাঁচান।

মনস্তত্ববিদ-  আমি মানুষটা যেহেতু আলাদা, তাই আমি কী করতাম তা এখানের
আলোচনায় না এলেও চলে। একজন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আপনার সুস্থতার চেষ্টা করতে পারি শুধু।

অমুক হ্যাঁ দিদি, তা বললেও হবে।

মনস্তত্ববিদ-  আপনি ইমিডিয়েটলী গোপনীয় সম্পর্কটা বন্ধ করুন, স্বামীকে সবটা
         খুলে বলুন। আপাতভাবে এই কাজের একটা ঝাপটা তো আসবেই।
         চতুর্দিকের বদল হাওয়ায় আজকের যে সমাজ তার অস্তিত্ব নিয়ে
         নিজেই সংকটে, সেই আপাত সমাজ তো সহজে আপনাকে ছাড়বে না।
         যাই হোক, প্রাথমিকভাবে এই গোলোযোগ-টাকে গ্রহণ করুন ও দেখুন
         কী হয়। সিদ্ধান্ত কিন্তু আপনাকেই নিতে হবে কোনটা ঠিক, কীসে
         আপনার ভাল হয় বা কোথায় আপনি আনন্দ পান.... আপনি সাহসী
         মহিলা, ঠিকই সামলাতে পারবেন। আশা করি বোঝাতে পারলাম।

ডিসকানেক্টেড হল লাইন ও আমি মনস্তত্ববিদের সাহসী বলে এ্যাপ্রিসিয়েট করা কথা ও বদল সমাজের গাথা শুনে আমার মনোভূমের দিকে তাকালাম। মানুষের এই বদলে যাওয়া মুখচ্ছবি দিয়েই তো সমাজছবি তৈরী হচ্ছে- তাই না? কে কার ওপর নির্ভরশীল? মানুষ সমাজের ওপর না সমাজ মানুষের ওপর? আমি এমনিতেই একটু কল্পনাপ্রবণ। তায় তার্কিক বিষয় হলে মন হাওয়ার বেগে দৌড়তে চায়। আমি তখন থেকেই ভাবতে শুরু করেছিলাম- যে যদি গল্প লিখি, আর এই চারটি চরিত্রকেই বেছে নিই (স্বামী-স্ত্রী-অখিলেশ-মনস্তত্ববিদ), তবে কাকে ধরে এগোব? ভেবে দেখলাম চারটে চরিত্রই খুব মজবুত। আমার মস্তিষ্কে এরা প্রচুর খাদ্য জোগাচ্ছে। তবে লিখতে বসলে শুরু করতাম সোজা অংক দিয়ে- মনস্তত্ববিদ। আমার গল্পের নায়িকা বা নায়ক।

মন যখন বেশ লিখতে পারার ভাবনায় তৃপ্তিস্বাদে মশগুল, তখনই সমস্ত ভাবনাকে আমার ছিঁড়েখুঁড়ে দিয়ে চ্যানেলে কলারের ফোন-

- হ্যালো, হ্যালো..... শুনতে পাচ্ছেন? আমি বাগডোগরা থেকে ঋতম বলছি। আমি প্রাইভেট ট্যুইশন করি। আমার প্রবলেমটা হচ্ছে- আমি স্নেহবশতঃ কিছু ছেলের সঙ্গে......